সত্যপীর ও একটি ধ্রুবতারা ।। আফসার নিজাম
সত্যপীর ও একটি ধ্রুবতারা
আফসার নিজাম
মানবজীবন বড়ই নাতিদীর্ঘ। কিন্তু জ্বীনের জীবন মহাদীর্ঘ। তারা দেড়-দুইশত বছর বাঁচে। যেখানে আল্লাহ জ্বীনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদমকে সেজদা দিতে। সেই আদম কেন এত কম সময় বাঁচে। একথা ভাবতে ভাবতেই আমার সময় বয়ে যায়।
আমার বউয়ের বিস্তর অভিযোগ। আমি নাকি সংসারী না। সংসার সম্পর্কে আমার জ্ঞান অতিনগণ্য। অনেক চিন্তা করে দেখলাম কথা সত্য। আমি বাজার করতে জানি না। দোকানদারের সঙ্গে দরদাম করতে জানি না। মাছওয়ালার কাছ থেকে তাজা মাছ কিনে বাসায় এনে দেখি পচা। গরুর গোশত কিনলে হাড্ডি থাকে অর্ধেক। বাজার করার তালিকার অনেক সামানই না নিয়েই চলে আসি। আমার এই বেখেয়ালির জন্য বউ সব সময় চিন্তায় থাকে। আমাকে নিয়ে বদস্বপ্ন দেখে। কেউ আমাকে ক্ষতি করতে চায়। আমাকে ঘুমের ঘোরে জড়িয়ে ধরে। বিড়বিড় করে কথা কয়। ঘুমের মধ্যেই কাঁদতে থাকে। আমি ডিম লাইটের আলোয় ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। পাপহীন এক মানবী ঘুমিয়ে আছে জান্নাতি পালঙ্কে।
এখন আমার বয়স কত! দাড়িতে পাক ধরেছে। চুলে শুভ্র কাশবন দেখা যাচ্ছে। নিজেকে নিজে প্রশ্ন করি। চুলের থেকে দাড়ির বয়স কম। তবুও চুল থেকে দাড়ি আগে পাকে কেন। বয়স খুবই জরুরি বিষয়। জ্বীন অনেক বেশি বয়স পায়। আর মানুষ কম পায়। তারপরও মানুষ বেশি কামিয়াব। ঘোর লেগে যায়।
বয়স হয়ে যাচ্ছে। বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কত মানুষের সঙ্গে মিশেছি। একদিন এক ফকির ডাক দিয়ে বলে— ‘তুই অনেক বড় হবি।’ আমি তখন বড় হওয়ার নেশায় বুঁদ ছিলাম। আগ্রহ নিয়ে তার দিকে তাকাই। কী ভয়ংকর ধূসর চোখ। যেন মহাকাল ঢুকে আছে তার চোখের ভেতর। এই কালগ্রাসী চোখের দিকে তাকিয়ে আমি ভয় পেয়ে যাই। আমার বড় হওয়ার খায়েশ উড়ে যায় শিমুল তুলোর মতো। আমি কাঠপুতুলের মতো ঠায় দাঁড়িয়ে থাকি।
—জানস আমি কে?
—না, আমি আপনাকে চিনি না!
—আমি সত্যপীরের মুরিদ!
—সবাই তো সত্যপীর দাবি করে!
—সব পীরই সত্যপীর না, পাগলা! সত্যপীর তালাশ করতে হয়। সত্যপীরের অনেক চোখ থাকে। সে দেখতে পায় তাবৎ দুনিয়া। জ্বীনদেরও তারা মুরিদ করে!
—আমি কি তার মুরিদ হতে পারব!
—তারে তালাশ কর, একদিন পাইয়া যাবি!
আমার ঘোর ধরে। তাকে হুদাই প্রশ্ন করি। যে প্রশ্নের দরকার নাই তাও জিজ্ঞাসা করি। তিনি বিরক্ত হন না। যেন তার চোখের ভেতর ব্ল্যাক হোল। রাজ্যের বদখাসলতগুলো শুষে নেয়। আমার খামোখা প্রশ্নগুলোও শুষে নেয় তার ব্ল্যাক হোলে। তিনি প্রতিটি প্রশ্নেরই উত্তর দিয়ে সময়ের প্রতি তাগাদা দেন।
—সময় খুবই খারাপ। কিন্তু মওলা সময়কে গালি দিতে নিষেধ করেছেন। সময় থাকতেই সময়ের কাজ কইরা নিতে হয়, পাগলা। মালাউন জমানায় সত্যপীরের তালাশ জারি রাখতে হয়। সত্যপীরের সন্ধান পাইলেই মাওলারে পাওয়ার পথ সহজ হইয়া যায়।
তিনি চলে যান। দূর থেকে শুনতে পাই— ‘পথের তালাশই পথ খুঁইজা দেয়।’
মানুষ যখন ধ্যানের মধ্যে থাকে তখন সে অধিক দেখে। বায়ুমণ্ডলের কম্পনও দেখতে পায়। আমি পীরে ভক্ত নই। আমার মা সুফিবাদে বিশ্বাসী। পীর তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মা অন্তর অবলোকনে পারদর্শী। আমাকে তিনি বহু পীরের দরগায় নিয়ে গেছেন। তাবিজ দিয়েছেন। তাগা দিয়েছেন। বাতাসার সঙ্গে গোলাপফুলের পাপড়ি মিশিয়ে খেতে দিয়েছেন। সবই আমার কল্যাণের জন্য। আমি মায়ের সামনে এ বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করিনি। মায়ের মন খারাপ হবে। মায়ের বিশ্বাস ও চিন্তার সঙ্গে ফারাক থাকলেও আমি বুঝতে দিইনি।
আমার বউ তাবিজ-তুমারে বিশ্বাস করে না। শরিয়াহ মোতাবেক তার চালচলন। কোরআন-সুন্নাহর বাইরে গিয়ে আগ্রহ কম। দুনিয়াদারি তার আগ্রহের বিষয়। আখেরাত তার পাওয়ার বিষয়। সে এখন সন্তানসম্ভবা। সন্তানের চিন্তায় নিমগ্ন।
আমি সন্তানের জন্য একটি নাম খুঁজি। সৃষ্টিকর্তা তারকারাজির কী নাম দিয়েছেন। সেই তারকারাজির অবস্থান কোথায়! তাদের পরিচয় কী! তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কী! ধ্রুব একটি তারার নাম। সন্তানের নামের তালিকা পছন্দ করতে করতে আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই। আমি নামের ছোট্ট একটি তালিকা পছন্দ করি। বউ আমার সঙ্গে সায় দেয়। তার মনের ভেতর কী আছে অনুসন্ধান করার জন্য ফুরসত পাই না। সন্তানের জন্য যে নাম তার বুকের ভেতর লুকিয়ে রেখেছে, তা আমাকে দেখাতে চায় না। কারণ সে আমাকে ভালোবাসে। আমাকে পীর মানে। আমি যা বলি সেটাই আনন্দচিত্তে গ্রহণ করে। আমি কখনই তার মনের ভেতর উঁকি দিই না। সেখানে নামের তালিকায় কী ছিল। নামগুলো কোন অক্ষর দিয়ে শুরু হয়েছিল। আমি এমনি বদনসিব আদমি। প্রেমের নদীতে নাও ভাসাতে বেমালুম ভুলে যাই। বউয়ের মনের দরজা খুলে দেখি না কতটা গোলাপ ফুটেছে। কতটা স্বপ্ন মরে গেছে প্রেমহীনভাবে।
আমার মায়ের চরিত্রগুলো ক্রমান্বয়ে আমার বউয়ের ভেতর বিরাজ করতে শুরু করে। আমাদের বিয়ের চার মাস আগে মা ইন্তেকাল করেন। আমাকে দেখভাল করার জন্য বোনেরা বিয়ে করিয়ে দেয়। বাড়ির মানুষদের সঙ্গে আলাপ করে, পাড়ার মানুষের সঙ্গে গল্প করে অল্প সময়ের মধ্যেই আমার বউ মায়ের চরিত্র আয়ত্ত করে নেয়। বাড়ির মালকিন হওয়ার চেষ্টা করছে বোধ হয়। মায়ের আসনে সে আসীন হতে চায়। পীরবাদে বিশ্বাস না করলেও বাড়িতে ফকির-মিসকিন লেগেই থাকে। সবাই যখন শাশুড়ির প্রশংসা করে, তখন তার ভেতর একটা অভিমান জেগে ওঠে, বা বাড়ির কর্ত্রী হওয়ার খায়েশ চনমনে হয়ে ওঠে। তারা এসে গল্প করে, “তোমার শাশুড়ি আমাগো কত মহব্বত করতো। আমাগো এটা দিতো, ওটা দিতো।” এই সব প্রশংসা শুনে নিজেও দান-খয়রাত, সাহায্য-সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে। তাদের প্রশংসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শাশুড়ির চরিত্র অর্জন করে।
আমাদের বিয়ের মাত্র এক মাস। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে বন্ধু মাসুদ জাকারিয়া ফোন দিল। রাত তখন এগারোটা কি বারোটা হবে।
—আমি আসতেছি। চিটাগাং থেকে রওনা দিতেছি। তুমি দরজা খোলা রেখো। সঙ্গে এক বন্ধু আছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসতে কতক্ষণ লাগবে। সকাল হয়ে যাবে। ভোররাতে দেখি মাসুদ দরজা ধাক্কাচ্ছে। ক্রমাগত ফোন করছে। তাদের আসার অপেক্ষা করতে করতে আমরা শেষরাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ধড়ফড় করে উঠে দরজা খুললাম। দেখি সঙ্গে এক মেয়ে। মাসুদ তো বেজায় রাগ।
—তোমাকে বললাম দরজা খোলা রাখতে। আমার সঙ্গে একজন মেয়েমানুষ আছে। আর তুমি দরজা বন্ধ করে দেদারসে ঘুমাচ্ছো।
অর্পিতাকে নিয়ে পালিয়ে এসেছি।
আমি তাড়াতাড়ি বললাম, অত কথা বলার দরকার নাই, তুমি ঘরে আসো।
অর্পিতা মাসুদের প্রেমিকা। আমি ওর জন্য চিঠি লিখে দিয়েছিলাম। মাসুদ কবি। ভালো কবি। কিন্তু প্রেম করতে গিয়ে কবিতা আর চিঠি হয় না। আমি কোনোরকম লিখে দিলে সে এটাকে নিজের মতো করে লিখে অর্পিতাকে দিয়েছিল। যাকগে সে কথা। অর্পিতা হিন্দু ধর্মের মেয়ে। মাসুদ তাকে বিয়ে করবে। বিয়ে করার আগে অনেক প্রসেস। তাদের ঢাকায় থাকতে হবে। আমার মাত্র দুটি রুম। এক রুমে ছোট আপা থাকে, অন্য রুমে আমি আর বউ থাকি। আরও একটি রুম আছে—খাবার রুম। সেখানে ছোট্ট একটি খাট বিছানো। আমি আর আমার বউ আমাদের ঘর ছেড়ে দিই তাদের জন্য। আমরা খাবার রুমে গিয়ে থাকি। মাসুদের বিয়ের বিষয়টি শেষ হতে এক মাস লেগে যায়। কারণ হিন্দু থেকে মুসলিম হতে এফিডেভিট, মুসলিম রীতিতে বিয়ে। ঢাকা শহরে বাড়ি ভাড়া করতে হলে মাসের প্রথম দিন থেকে নিতে হয়। আর খুঁজে রাখতে হয় প্রায় পনেরো দিন আগে। সেই এক মাস আমরা আমাদের রুমটি ছেড়ে খাবার রুমে থাকি। বউয়ের সেই বিষয়ে কোনো আক্ষেপ ছিল না। বরং আমাদের পছন্দ করা কন্যাসন্তানের নামটি মাসুদের বউ, মানে অর্পিতার জন্য ওয়াকফ করে। নামটি তার খুব পছন্দ ছিল—আয়েশা মাহজাবীন।
আমার বউ সংগীত ও নৃত্যশিল্পী। আমি যখন বিয়ে করার জন্য তাকে দেখতে যাই, দেখি তাদের বাসায় একটি হারমোনিয়াম। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি গাইতে পারো, নাচতে পারো? সে বলল, হ্যাঁ পারি। বেশ, আমি বিয়ে করার জন্য রাজি হয়ে গেলাম। বউয়ের কণ্ঠ অনেক সুন্দর। সে ঘুমানোর সময় আমার মাথায় বিলি কাটে আর গান গায়। আমি রাজ্যের ক্লান্তি মুছে ঘুমিয়ে যেতাম। ফজরের নামাজের আজান দিলে দুজনে পবিত্র হয়ে নামাজ আদায় করতাম। নামাজ শেষে সে সুললিত কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত করত। গানের মতো করেই তার কণ্ঠ থেকে ঝরে পড়ত তেলাওয়াত। আমি সে তেলাওয়াত শুনতে শুনতে আবার ঘুমিয়ে যেতাম। যে ঠোঁটের মধ্য দিয়ে প্রাণশীতল করা তেলাওয়াত বের হয়, মন চায় সারাদিন সেই ঠোঁটে চুমু খাই। বেহেশতি সুধায় ভিজিয়ে রাখি গোলাপি স্বপ্নগুলো।
আমরা ঢাকার ভেতরে গ্রামে থাকি। মিরপুরের একটি গ্রাম। টেকেরবাড়ি। গ্রামটি নয়নাভিরাম। টিনের ঘর, মাটির দেয়াল। বর্ষায় বৃষ্টির শব্দ আমাদের মোহিত করে রাখে। টিনের চালে বৃষ্টি পড়ার শব্দ যারা শোনেনি তারা পোড়াকপালে। এমন মধুময় মনোহর শব্দঝংকার আমাদের প্রেম আরও নিবিড় করে। আর যখন বাড়িতে থাকি না, তখন রেহনুবা, মানে ইভা। ইভা আমার বউয়ের নাম। আমি নাম দিয়েছি রেহনুবা নিজাম ইভা। প্রথম প্রথম সে নামটি শুনলে আনমনা হয়ে যেত। কিন্তু আমার প্রতি তার প্রেম এতটাই বেশি যে আমি যা বলি তাই তার কাছে ক্রমান্বয়ে গ্রহণীয় হয়ে ওঠে। নামের ব্যাপারেও তাই। আমি যখন বাড়ি থাকি না, তখন সে বৃষ্টি দেখে। আমাদের বাড়ির উঠোনে গান গায় আর নাচতে থাকে কিশোরী বালিকার মতো।
আমার বাড়ি ফিরতে রাত হয়। বাংলাদেশ সংস্কৃতিকেন্দ্রে কাজ করি। সাহিত্য পরিচালক হওয়ায় রাত একটু বেশিই হয়। অনেক কবি-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীদের আনাগোনা। আর সন্ধ্যার পরেই যেন জমে ওঠে আড্ডা। রেহনুবা গর্ভবতী। সে তার রুমে একা। আমাদের রুমে একটি বড় অ্যাকুরিয়াম আছে। সেখানে রঙিন মাছ খেলা করে। রেহনুবা সেই রঙিন মাছ দেখে। বলে, অ্যাকুরিয়ামের মাছগুলো আমার সন্তান। আমার সন্তান হবে মৎস্যকন্যা। রঙিন লেজ নাড়িয়ে সাঁতার কাটবে। আমি আর তুমি মিলে আমাদের মৎস্যকন্যার সাঁতার দেখব। মাঝে মাঝে সে ভয় পায়। স্বপ্ন দেখে কোনো দুষ্টু জেলে রঙিন মাছগুলো ধরে নিয়ে যায়। তার মধ্যে আমাদের মৎস্যকন্যাও আছে। পানি ছাড়া সে বাঁচবে কীভাবে? মা-বাবা ছাড়া সে বাঁচবে কীভাবে? ঘুমের মধ্যেই সে কাঁদতে থাকে। আমি তাকে জাগিয়ে তুলি। বলে, "বান্দর জেলেকে তুমি কিছু বললা না।" আমি তার ঘোর কাটার জন্য অপেক্ষা করি। সে স্থির হয়। ওয়াশরুমে যায়। ওজু করে। কোরআন শরীফ নিয়ে তেলাওয়াত করতে থাকে। আবার একটি কোকিলকণ্ঠের তেলাওয়াত আমাকে মোহাবিষ্ট করে। আমি ঘুমিয়ে যাই।
মোমেন আমার বাসায় এসেছিল। আমাকে পায়নি। বলেছে জরুরি। বাসায় আসার পর রেহনুবা আমাকে বলে। আমি দ্রুত ওর সঙ্গে দেখা করি। মোমেন আমার জিগরি দোস্ত। কলিজার টুকরা। দুজন দুই মহল্লার, কিন্তু বড় হয়েছি একসঙ্গে। তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের ভাটা পড়েনি কোনো দিন। ও দেখা করতে বলেছে, তো নো টাইম পাস। ওর সঙ্গে দেখা করতে ঈদগাহ মাঠে যাই।
—তোর সেই সত্যপীরকে দেখেছি।
—কোথায়?
—বোটানিক্যাল গার্ডেনের পিছে। তুরাগ নদীর তীরে, চটবটতলা। বটগাছের নিচে।
চটবটতলার গাছটি প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো। সেখানে এই পীর বসেছে। বিরাট বটগাছের এক পাশে চলে সুফি গান, অন্য পাশে পড়ে নামাজ, আরেক পাশে হিন্দুরা পূজা দেয়। কেউ কারও প্রতি বাধা হয়ে ওঠে না।
বিয়ের পর রেহনুবাকে ছেড়ে আমি বাইরে রাত কাটাই না। গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা দিলেও বউয়ের ডেরায় ফিরে যাই। বউ আমার বেশ পারদর্শী। কীভাবে স্বামীকে বশ করতে হয়, এ মন্ত্র তার বেশ জানা। আমার বউ কেন যেন মনে হয়, দুনিয়ার তাবৎ নারী স্বামী বশ করার এই মন্ত্র আত্মস্থ করে জন্ম নেয়। রেহনুবা আমার সঙ্গে ঝগড়া করলেও বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখে। গান গেয়ে আমাকে বিমোহিত করে তোলে। নাচের মুদ্রায় আমাকে জড়িয়ে ধরে। আমি ভেজা মাটির মতো নরম হয়ে যাই। আমাকে সে তার মতো নির্মাণ করে। যেন এক দক্ষ কুমারকন্যা।
সত্যপীরের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল প্রায় কুড়ি বছর আগে। বর্ষার পানি আসত আমাদের বাড়ির দোরগোড়ায়। শহররক্ষা বাঁধ ছেড়ে দিত। বাঁধের ভেতরে পানির চাপ যেন কম থাকে। পানি খাল বেয়ে চলে আসত আমাদের বিলে। তখন বিলে থইথই পানি। পানির ওপর চাঁদ তার চেহারা দেখে। অগভীর পানিতে শাপলা ফুল ফুটে থাকে। সঙ্গে ঘাস-বিচালি।
সেদিন এশার নামাজ আদায় করে বিলের কিনারা ধরে হাঁটতে বের হয়েছি। কালাপানি যাওয়ার বড় রাস্তাটির শেষ মাথায় কালভার্ট। সেখানে একটি ছোট বটগাছ। আমরা দিনের বেলায় সেখানে আড্ডা দিই। রাতে পারতপক্ষে কেউ যাই না। মাঝে মাঝে অসীম সাহসী বাউন্ডুলেরা আসে। আমি অসীম সাহসীও না, বাউন্ডুলেও না। কিন্তু আমার রাতের স্নিগ্ধ পরিবেশ ভালো লাগে। একা একা চলতেও ভালো লাগে। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিলেও আমার একান্ত কিছু সময় লাগে। একা থাকতে ভালো লাগে। একা হাঁটতেও ভালো লাগে।
তো সেদিন হাঁটতে বের হয়েছি। বটগাছের নিচে আসতেই মোমের ডিমডিমে আলো চোখে পড়ে। মোমবাতির আলো বিলের পানিতে সাঁতার কেটে ঢেউয়ের মধ্যে হারিয়ে যেতে থাকে। সে এক মনোরম দৃশ্য। আমি বিমোহিত হয়ে যাই। অজানা কোনো টানে সেদিকে হাঁটতে থাকি। অথচ আমার ভয় পাওয়ার কথা। আজ আমার সকল ভয় উবে গেছে। কাছাকাছি আসতেই জিকিরের আওয়াজ আমার কানে মূর্ছা খায়। আমি একদম বটগাছের নিচে এসে হাজির হই।
একজন পীর সাহেব। তার পরনে তালি দেওয়া সাদা আলখেল্লা। সাদা দাড়ি। সাদা চুলগুলো স্বর্ণলতার মতো তার পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। হালকা বাতাসেও উড়ছে ভোকাট্টা ঘুড়ির মতো। বাদামি রঙের ছিপছিপে মানুষটার চেহারায় আলো ছড়াচ্ছে। যেন বেহেশত থেকে নেমে এসেছে কোনো ফেরেশতা। আমি তার চেহারার দিকে তাকিয়ে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম, মনে নেই। বহুক্ষণ পরে তিনি চোখ খুলে দেখেন। বসার জন্য ইশারা করেন। তখন টের পেলাম, আমার পা জ্যাম ধরে গেছে। ভারী আর ব্যথা লাগছে। স্কুলে পড়া না পারলে স্যার পুরো পিরিয়ড যখন এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখতেন, স্যার চলে যাওয়ার পর সিটে বসলে যেমন লাগত, ঠিক তেমনি অনুভব করলাম।
তার চোখের দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে যাই। আমার না-বলা কথাগুলো যেন তার চোখের আয়নায় ভেসে উঠেছে। আমার আদি-অন্ত আমলনামা দৃশ্যকাব্যের মতো ভাসছে তার চোখের মনিটরে। আমি কাদামাটি হয়ে যাই। ঢলে পড়ি তার বিছানো জায়নামাজে।
কতক্ষণ এভাবে ছিলাম বলতে পারব না। তখনও ধ্রুবতারাটি জ্বলছে মিটমিট করে। ধ্রুবতারা কি চিরসত্য? আরও সত্যও কি লুকিয়ে আছে এ জাহানে? আমাদের বাইরেও কি এরকম খেলা চলে? খেলার কারিগর কি আমাদের অবলোকন করেন? বান্দার আমলনামা কি তিনি পরিশুদ্ধ করার জন্য এমন সত্যপীর প্রেরণ করেন? আজ যেন সকল দুয়ার উন্মোচন হয়ে আসছে। কোথা থেকে এলাম। কোথায় চলে যাব। তার সুরাহা হয়। কিন্তু মানবজীবন অল্পতেই ভেঙে যায় কাঁচের তৈজসপত্রের মতো। একটু অবহেলা। একটু বেখেয়ালেই হারিয়ে যায় নান্দনিক সৌন্দর্য। গ্রাস করে নেয় নফস-শয়তান। তার থেকে পানাহ চাইতে হয়। সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ অনুসরণ করতে হয়। তার জন্য চাই রাহবার। ইমাম। সত্যপীর।
আমার মাথাটা কেমন ঝিম ধরে ওঠে। যেন দূরে বহুদূরে কেউ আমাকে ডাকছে। মাথার ভাবনাগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে। মনে হয় মাথার মগজ খুলে রেখে দিই জায়নামাজে। তারপর স্থির হয়ে বসে থাকি অনন্ত সময়। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। চোখের ভেতর কোনো প্রশ্ন নেই। মুখে কথা নেই। আমি উঠে বসি।
—কেমন লাগছে এখন?
—ভালো। হালকা। যেন আমি চাইলেই আকাশে উড়তে পারি।
তিনি কিছুক্ষণ নীরব। তারপর দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে হাক দেন— ইল্লাল্লাহ। যেন আকাশ বিদীর্ণ করে এই শব্দ উঠে যায় আরশে মুআল্লায়। তার হাতের আসাটি ওপরের দিকে তুলে অস্পষ্ট স্বরে তেলাওয়াত করেন। সেই দিকে আমার মনোযোগ নেই। তার আসার মধ্যে যে রূপালি ধাতব লাগানো, সেখানে আমার চোখ আটকে যায়। রূপালি ধাতবের রূপালি আলো ধ্রুবতারার সঙ্গে সংযোগ হয়ে গেছে। যেন ইথারে তথ্য লেনদেন করছে। ফাইবার কেবলের মতোই এই আলোর কেবলে আমি দেখতে পাচ্ছি আমার ভূত-ভবিষ্যৎ। সত্য হয়ে উঠছে পাপ-পুণ্য। আমার পাপে আমি নুয়ে পড়ছি। আমার পুণ্যে আমি হুদহুদ পাখি হয়ে যাচ্ছি। নিঃশ্বাস বন্ধ করে পাঠ করছি আমলনামা। আমার শ্বাস শেষ হয়ে আসছে। আমি আর পারছি না। তিনি এবার বসে পড়েন। আমি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসি।
তিনি আমার দিকে আবার তাকান। আমি নামাজের সুরতে বসি। পশ্চিম থেকে একটি লাল আভা আমার চেহারায় এসে পড়ে। আমি জ্বলে যেতে থাকি। চিৎকার করি। কিন্তু কোনো শব্দ হয় না। আমি মাকে ডাকি। মা আমার সামনে ধোঁয়াশার মতো এসে কুয়াশার মতো মিলিয়ে যায়। আমি বাবাকে ডাকি। সেও কুয়াশার মতো মিলিয়ে যায়। আমি আমার রাসুলকে ডাকি। আমার পথনির্দেশক। তারপর এক নূরানি আলো এসে আমার চোখে-মুখে লেগে যায়। তপ্ত গরমে এসি রুমের শীতলতায় যেন আমার শরীর জুড়িয়ে যায়। আমার অন্তর থেকে একটি পাথর নেমে ফুল হয়ে যায়। তার সুবাস ছড়িয়ে পড়ে বটতলার বাতাসে। এবার আমি শান্ত হই। তিনি আমার সামনে একটি পেয়ারা আর দুটি খেজুর এগিয়ে দেন। আমি তৃপ্তিভরে খাই। যেন বহুকাল না-খাওয়া আমি এক আদমি। মঙ্গাপীড়িত অঞ্চলের বর্গাচাষি।
আমাদের মধ্যে কথা শুরু হয়। জানতে চাই, কোথা থেকে আসছেন। প্রায় অস্পষ্ট স্বরে বলেন, চাটগাঁ থেকে। কোরআন-হাদিসের ওপর বিশদ জ্ঞান অর্জন করে রূহানি জগতের সন্ধানে বের হয়েছেন। ছিলেন মুফতি। পড়েছেন মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাসুলের রওজায় বসে নিয়ত করেছেন, জ্ঞানের আলো জ্বালাতেই জীবন বিলিয়ে দেবেন। জ্ঞান অর্জন আর জ্ঞান প্রদানে তার সময় অতিবাহিত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিটি নদীর তীর ধরে তিনি হাঁটেন। আর বিলি করেন আল্লাহর পয়গাম। এই জীবনে প্রায় তিনশ পথহারাকে ইসলামে দীক্ষিত করেছেন। দিয়েছেন মওলার সন্ধান। জাহিরি ইবাদতের সঙ্গে বাতেনি ইবাদতের করছেন মেলবন্ধন। তিনি বলেন— জ্ঞান আর ইবাদত দেখানোর জন্য নয়। জ্ঞান আর ইবাদত মওলার জন্য। মওলার পাঠানো আসমানি, রূহানি জেল্লা মাখার জন্য।
মধ্যরাতে সফর শুরু করে সুবহে সাদিকের দিকে রওয়ানা হন। চাদরের মতো মেঘগুলো ধ্রুবতারাকে একবার ঢেকে দিচ্ছে, আবার খোলাসা করছে। মেঘের এই আসা-যাওয়ার মধ্যে আমি তারাকেই সত্য হিসেবে জ্ঞান করছি। সেই সত্য হাজির থাকছে আমাদের মধ্যে। পীর সাহেব এবার উঠে দাঁড়ালেন। নামাজের নিয়ত করলেন। তাহাজ্জুদগুজারে মন দিলেন। আমিও উঠে দাঁড়াই। তিনি কিছু বলেন না। মধুর কণ্ঠে সুরা ফাতিহা পাঠ করেন। তারপর সুরা ফিল, আবার সুরা ফিল— এভাবে কতবার পাঠ করলেন, আমি গণনা করতে পারিনি। এরপর রুকু দেন। সেজদা দেন। সেজদায় তিনি মোনাজাত করেন। দীর্ঘ মোনাজাত। এ যেন আল্লাহর কাছে আবদারের ডালা নিয়ে বসেছেন। তার যত আরজি আছে সব উপস্থাপন করছেন। আমার মনে হলো, আল্লাহ তার সব আরজি কবুল করেছেন। তারপর তিনি সেজদা থেকে উঠলেন। আবার সেজদা দিলেন। আবার তার আরজি পেশ করলেন। যেন আরজি কবুল না হওয়া পর্যন্ত তার ক্ষান্ত নেই। এক-একটি সেজদা যেন অর্ধঘণ্টার মোনাজাত। আমিও আমার আরজি পেশ করার প্রস্তুতি নিলে মনে হয়, আমার যেন কোনো আরজি নেই। আমি তার আরজির সঙ্গে লীন হয়ে গেছি।
সালাম ফিরিয়ে দেখি, শত শত মানুষ আমাদের সঙ্গে সালাম ফিরাচ্ছেন। আমি যেন এখনই জ্ঞান হারাব। নামাজ শেষে সবাই সত্যপীরের সঙ্গে মুসাফাহ করলেন। তারপর চলে গেলেন। একজন দুজন করে শাদা বকের মতো উড়ে যাচ্ছে আকাশে। আমি তাদের চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে দেখতে অন্ধ হয়ে গেলাম। এখন আর কিছুই দেখছি না। একটি আলোর গোলক ছাড়া। তিনি আমার নাম ধরে ডাকেন—
—নিজাম।
আমার নামটি যেন ইথারে ভেসে প্রথম আকাশে উড়ে যাচ্ছে। আমার সম্বিত ফিরে আসে। আমি জবাব দিই—
—জি হুজুর।
—তারা কারা ছিল জানো?
—জি না।
—জ্বীন। জ্বীন শুধু শয়তানই হয় না। আবেদও আছে। রাসুলে খোদার অনেক জ্বীন সাহাবি ছিল। এটা জানো?
—জি জানি।
আমার মরহুম বাবার কথা মনে পড়ে। বাবা বলেছিলেন তার জ্বীন দেখার কাহিনি। বাবা সব সময় রাতের বেলা তার শ্বশুরবাড়ি, মানে আমার নানার বাড়ি যেতেন। একদিন ঢাকা থেকে রওনা হয়ে নারায়ণগঞ্জ যান। সেখান থেকে লঞ্চে করে চাঁদপুরে যাবেন। লাস্ট ট্রিপ দেরি করায় বাবার যেতে গভীর রাত হয়ে যায়। বাবা খুবই সাহসী মানুষ ছিলেন। তিনি রাতকে উপভোগ করতেন।
পূর্ণিমার রাত। ফকফকা ফসলের মাঠ। যেন জোছনায় ভেসে যাচ্ছে ফসলি জমি। কিন্তু এবার নানার বাড়ির কাছে আসতেই দেখলেন, নানাদের জমিতে কারা যেন গোল্লাছুট খেলছে আর ছড়া কাটছে—
গোল্লা গোল্লা সই
কাফিলার দই
এক মন ধান দিলে
আশি মন খই।
মনে হলো পাকা ধানগুলো মাড়িয়ে নষ্ট করছে। সবার পোশাকই ধবধবে সাদা। তাদের মধ্যে মেয়েমানুষ ও বাচ্চাও আছে। চোখ রগড়ে আবার দেখলেন— কারও পা মাটিতে পড়ছে না। বাবা বুঝতে পারলেন এরা জ্বীন। তিনি সোজা বাড়ির দিকে হাঁটা ধরলেন। এমন সময় একজন ডাক দিলেন—
—কী ভাইসাব, খেলবেন আমাদের সঙ্গে?
বাবার আর কিছু মনে নেই। ফজরের আজান দিলে তিনি টের পান, মসজিদের বারান্দায় শুয়ে আছেন।
আমি পীরের দিকে তাকিয়ে আছি। তার কোনো সবক পাই কি না। তিনি কোনো কথা বলেন না। আমি জিজ্ঞেস করি—
—আমার জন্য কোনো অসিয়ত আছে?
তিনি বলেন, আল্লাহই তোমার জন্য অসিয়ত পাঠিয়েছেন— 'ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযি খালাক।'
এবার তিনি উঠে দাঁড়ালেন। আমি যেন দেখতে পাচ্ছি তার মাথা বটগাছ ফুঁড়ে আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে। আমি চোখ কচলিয়ে আবার দেখি। না, কিছু না। সব স্বাভাবিক। তিনি এবার হাঁটা শুরু করলেন। হেঁটে হেঁটে বিলের কিনারে গেলেন। আমি ভাবলাম অজু করবেন। না, তিনি নেমে গেলেন গভীর পানির দিকে। তারপর একটি চকচকে ছুরি দিয়ে তার পেট কেটে ফেললেন। নাড়িভুঁড়ি বের করে ভাসিয়ে দিলেন আর ধোপার মতো ধুতে থাকলেন। সেই সঙ্গে আসমান-জমিন বিদীর্ণ করে জিকির হতে থাকল—
ইল্লাল্লাহ, ইল্লাল্লাহ, ইল্লাল্লাহ।
একটি কণ্ঠের সঙ্গে শত শত কণ্ঠ মিলিত হলো। তীরের গাছপালাও যেন জিকিরে সামিল হচ্ছে। জিকিরে দুলতে থাকল বিলের পানি। আমার চোখ কোটর ঠেলে বের হয়ে আসতে চাচ্ছে। আমার শরীর পাথর হয়ে গেছে। আমার মুখ বন্ধ হয়ে আসছে। আমার আর কিছু মনে নেই।
যখন চেতনা ফিরল, শুনতে পেলাম গাউসুল আজম মসজিদ থেকে আজান ভেসে আসছে—
আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম।
আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম।
সেই থেকে আমার নেশা হয়ে যায়। রাত হলেই বিলের তীর ধরে হেঁটে যাওয়া। প্রথম প্রথম বন্ধু মোমেন, খোরশেদ, মাহমুদ, বাসির সঙ্গে থাকত। একসময় তারা আগ্রহ হারিয়ে চলে যেত। কিন্তু আমি ক্লান্তিহীন হেঁটে চলতাম। কখনো যদি সত্যপীরের দেখা পাই। না, আর কোনো দিন তার দেখা পাইনি। তবে হাঁটার সময় দেখেছি রাতজাগা পাখির ডানা ঝাপটানো। কখনো দেখি দূরে গ্রামের কেউ হয়তো ইন্তেকাল করেছে, তার লাশ কবর দিয়ে বাড়ি ফিরছে। আবার নমপাড়ার দিকে হাঁটলে কখনো কখনো দেখতাম চিতার আগুনে পোড়ানো হচ্ছে কোনো এক হতভাগাকে। মাঝে মাঝে ঘাসের ওপর চিত হয়ে শুয়ে থাকতাম। আকাশের তারা গণনা করতাম। ধ্রুবতারা যেন আমার চিরসঙ্গী। সে সত্য। স্রষ্টার অপার সৃষ্টি হয়ে ডালিমের মতো ঝুলে আছে আকাশের গায়ে। আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমার পাপ-পুণ্য রেকর্ড করে।
ছোটবেলায় আমরা বলতাম, এই ধ্রুবতারা হলো আমাদের রাসুল। মৃত্যুর পর ধ্রুবতারা হয়ে গেছেন। তিনি আকাশ থেকে তার উম্মতকে দেখছেন। সে পথ বাতলিয়ে দিচ্ছে। বড় হয়ে বুঝতে পারলাম, তিনি যে ধ্রুবতারা রেখে গেছেন, তা আল-কোরআন আর তার সুন্নাহ। সেটা অনুসরণ করলেই আমরা আল্লাহকে পাব।
রাতের পর রাত নির্ঘুম থেকে হেঁটে হেঁটেও আমি সত্যপীরের দেখা পেলাম না। আজ যখন তার সন্ধান পেয়েছি, আমাকে যেতে হবে চটবটতলা। দীর্ঘ কুড়ি বছর তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষায় থেকেছি। আজকাল মানুষের আত্মা মরে গেছে। কাঠপুতুলের মতো শুধু দৌড়াচ্ছে। স্থির হওয়ার যেন তার ফুরসত নেই। আমি সত্যপীরের কাছ থেকে শিখে আসব মরে যাওয়া আত্মার রওশন পাওয়ার হেকমত। আমাদের অনাগত সন্তানদের অমরতা দেওয়ার ইহলৌকিক দাওয়াই।
কোন মন্তব্য নেই