আলা কুরআনের আলোক : আমরা কাদেরকে শাসক নির্বাচিত করবো
আলা কুরআনের আলোক-
আমরা কাদেরকে শাসক নির্বাচিত করবো
আমরা কাদেরকে শাসক নির্বাচিত করবো
আপনি কাকে লিডার বানাবেন! কাকে এমপি, মন্ত্রী বানাবেন! কাকে চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট বানাবেন। নেতার চরিত্র ও গুণাবলী কি হবে এ সম্পর্কে আল্লাহ কি বলেন- সূরা ইসুফ এর ৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে ‘‘ ইউসুফ আ. বলেন, আপনি আমাকে দেশের অর্থ-সম্পদের (ব্যবস্থাপনার) কাজে নিযুক্ত করুন। আপনি নিশ্চিত থাকুন আমি রক্ষণাবেক্ষণ ভালো পারি এবং এ কাজের পূর্ণ জ্ঞান রাখি।’’ এ থেকে আমরা কি বুঝতে পাড়ি।
প্রথমত : অর্থ ব্যবস্থপনায় তাকে দক্ষ হতে হবে।
দ্বিতীয়ত : সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণে ভালো হতে হবে মানে সৎ হতে হবে।
তৃতীয়ত : এ কাজে তাকে পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে।
আমাদের দেশেতো মুর্খ, বংশ পরমপরায় গদিনসীন পোলা, আইন বিষয়ক অজ্ঞ লোক এমপি হয়। অথচ তিনি আইন প্রণয়ন করতে এমপি হয়েছেন।
আল্লাহ সূরা আল ইমরানের ১৫৯ আয়াতে বলেন- “অতএব আল্লাহ পক্ষ থেকে রহমতের কারণে তুমি তাদের জন্য নরম হয়েছিলে। আর যদি তুমি কঠোর স্বভাবের, কঠিন হৃদয়ের হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং তাদের ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করো। অতঃপর যখন তুমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে তখন আল্লাহর উপর ভরসা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন।”
এখানে আল্লাহ নেতাদের গুণাবলি সম্পর্কে বলেন— তাকে হতে হবে নরম, ক্ষমাশীল ও পরামর্শপ্রবণ। তাদের অন্তরে দৃঢ়তা থাকতে হবে কিন্তু আচরণে বিনয় থাকতে হবে এবং আল্লাহর উপর ভরসাশীল।
এ সম্পর্কে আমরা সূরা শূরার ৪২ নং আয়াতে বলেন—
“তারা এমন যাদেরকে জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎ কাজের আদেশ দেবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে; আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে।”
নেতারা কি করবেন-
প্রথমত : তরা সালাত কায়েক করবেন।
দ্বিতীয়ত : যাকাতে দেবেন মানে যাকাত আদায়ও করবেন। যারা যাকাত না দিয়ে সমাজে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি করবেন তাদের প্রতি বল প্রয়োগ করবেন। যেটা হযরত আবুবকর রা. করেছিলেন।
তৃতীয়ত : সৎ কাজের আদেশ দেবেন।
চতুর্থত : অসৎ কাজের নিষেধ করবেন। মানে বল প্রয়োগ করবেন। আইনের শাসন নিশ্চিত করবেন। ইনসাফ কায়েম করবেন। সিটিজেন লাইটগুলো সঠিকভাবে পরিপালন করবেন। জনগণকে তাদের অধিকার নিশ্চিত করবেন।
পঞ্চমত : লিডার যে কাজিই করুক না কেনো তারা আল্লাহর দেয়া অনুশাসনকে মেনেই করবেন। কারণ আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন “আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে।”
এ সম্পর্কে সূরা বাকারার ২৪৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তাদেরকে তাদের নবী বললো, আল্লাহ যথার্থই তালুতকে তোমাদের বাদশাহ ঠি করেছেন। তারা বললো, ‘আমাদের উপর কী প্রকারে তার রাজক্ষমতা মিলতে পারে, যখন তার চেয়ে আমরাই রাজশক্তির অধিক যোগ্যপাত্র আর তাকে আর্থিক স্বচ্ছলতাও প্রদান করেছেন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছে নিজের রাজ্য দান করবেন, বস্তুতঃ আল্লাহ পর্যাপ্ত দাতা ও প্রজ্ঞাময়”
এই আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি, নেতাকে হতে হবে জ্ঞানী, শক্তিশালী, দৈহিক গঠন সুন্দর, মেঘাবী ও তীক্ষ বুদ্ধির অধিকারী। আর হতে হবে নেতৃত্বে পারদর্শী।
সূরা আম্বিয়ার ৭৩ নম্বর আয়াতেও আল্লাহ বলেন, “আমি নেতাদের নেতা বানিয়েছিলাম, যারা আমার হুকুমে মানুষকে পথ দেখাতো”
এই আয়াত দ্বারাও বুঝতে পারি, একজন নেতার বৈশিষ্ট্য হলো মানুষকে আল্লাহ তা’আলার নিদের্শিত পথে আহবান করবে এবং আল্লাহ তা’আলার বিধান অনুযায়ী মানুষকে পরিচালনার যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।
কোন মন্তব্য নেই